অতিরিক্ত ঘুম কোন রোগের লক্ষণ - মুক্তির উপায় জানুন
অতিরিক্ত ঘুম কোন রোগের লক্ষণ এটি জানার পরে আপনি অবাক হবেন। এর জন্যই আমাদের সঠিক নিয়ম অনুযায়ী ঘুমানো ও এই রোগের চিকিৎসা করা খুবই জরুরী।
সূচিপত্র:অতিরিক্ত ঘুম কোন রোগের লক্ষণ - মুক্তির উপায়
অতিরিক্ত ঘুম কোন রোগের লক্ষণ - মুক্তির উপায় জানুন
সুস্থ থাকার জন্য ঘুমানো আমাদের জন্য অতি জরুরী। তবে অনেক সময় আমরা অতিরিক্ত পরিমাণে বা সারা দিন ক্লান্তির কারণে বা অযথাই ঘুমিয়ে থাকি। যে কারণে আমাদের শরীরের মধ্যে ঘটতে থাকে নানা ধরনের সমস্যা। কেননা অতিরিক্ত ঘুমানো আমাদের শরীরের জন্য মরতেও উপকারী নয়।
এটি আমাদের শরীরকে আস্তে আস্তে ক্ষতির দিকে নিয়ে চলে। এবং আমাদের স্বাস্থ্য ও ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। যে কারণে আমাদের অতিরিক্ত ঘুমানো মোটেও উচিত নয়। এবং অতিরিক্ত ঘুমানোর কারণ নিয়ে আমাদের নানান রোগ ও হতে পারে। অতিরিক্ত ঘুম কোন রোগের লক্ষণ তা জেনে আমাদের সেই রোগের চিকিৎসা করা উচিত।
আজকে জানবো অতিরিক্ত ঘুম কোন রোগের লক্ষণ এবং এর চিকিৎসা ও করণীয় বিষয়গুলো কি এবং অতিরিক্ত ঘুম কেন আমাদের আসে বা হয়। অতিরিক্ত ঘুম কোন রোগের লক্ষণ। অতিরিক্ত ঘুম হলো:
- আমরা যখন অতিরিক্ত পরিমাণে ঘুমায় তখন সেটি ডিপ্রেশন বা মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এবং এটি মানসিক সমস্যা ও হতে পারে।
- অতিরিক্ত ঘুমানোর কারণে দেহে অলস হয়ে যেতে পারে যে কারণে আপনি কোন কাজে মনোযোগী হতে পারবেন না এবং কোন কাজ করতে ভালো লাগেনা। অতিরিক্ত পরিমাণে ঘুমানোর কারণে দেহের বেশি গুলো শক্তি হারিয়ে ফেলে এবং চাপ সহ্য করতে পারে না।
- সারাদিন কিংবা অতিরিক্ত পরিমাণে যেমন 10 থেকে 11 ঘণ্টা ঘুমানোর মাধ্যমে একজন নারী তার গর্ভধারণের ক্ষমতা আস্তে আস্তে কমে আসে।
- আমরা যখন অতিরিক্ত পরিমাণে ঘুমায় তখন আমাদের শরীরের জাঙ্ক ফুড ও উচ্চ ক্যালোরি খাবার গ্রহণ করতে শুরু করে বা মনে চাই এর জন্য আমাদের অতিরিক্ত ঘুমানোর ফলে এ সকল খাবার খাওয়ার ফলে ডায়াবেটিসের সমস্যা দেখা দেয়।
- এবং অতিরিক্ত ঘুমানোর ফলে হাইপারসোমনিয়া নামক একটি স্নায়বিক রোগের লক্ষণ। এই রোগটি হলে মানুষ ঘুমাতে ভালোবাসে বা মানুষের চোখে সব সময় ঘুম লেগেই থাকে।
প্রিয় পাঠক অতিরিক্ত কোন রোগের লক্ষণ তার উপরে জানানো হয়েছে আর এই সকল রোগ থেকে মুক্ত থাকার জন্য আমাদের মেনে চলতে হবে নানান নিয়মাবলী। এর মধ্যে সর্বোত্তম হলো আমাদের অতিরিক্ত পরিমাণে ঘুম ত্যাগ করতে হবে।
এবং আপনি কিভাবে ঘুম ত্যাগ করবেন তা নিচে ভালোভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে এবং আরো অন্যান্য তথ্য দেওয়া রয়েছে যেগুলো খুবই উপকারী হিসেবে আপনার কাজে লাগবে।
অতিরিক্ত ঘুম থেকে মুক্তির উপায়
অতিরিক্ত ঘুম থেকে মুক্তির উপায় জেনে আমরা অতিরিক্ত ঘুম কোন রোগের লক্ষণ তা উপরে দেওয়ার আছে সেই রোগগুলো আমরা নির্মূল করতে পারবো অতিরিক্ত ঘুম থেকে মুক্তির উপায় গুলো জেনে ও এর ওপরে নিজেকে নিয়ে পরিবর্তন করে।
আমরা যখন অতিরিক্ত ঘুমানো ছেড়ে দেবো তখন আমরা উপরে সকল রোগ থেকেই মুক্তি পাবে। এর জন্য আমাদের মানতে হবে বিশেষ কিছু নিয়ম। এবং এই নিয়মগুলো মানার ফলে আমরা অতিরিক্ত ঘুম থেকে মুক্তি পাব। এবং আমাদের শরীর ভালো ও সুস্বাস্থ্য হয়ে উঠবে। ঘুম থেকে মুক্তির উপায় হল:
- অতিরিক্ত ঘুম থেকে বাচার জন্য আমাদের সর্বপ্রথম আমাদের সারাদিন রাতের একটি রুটি তৈরি করতে হবে যেখানে আপনি কখন ঘুমাবেন তা নির্ধারণ করা থাকবে এবং সেই রুটিন অনুযায়ী ঘুমানোর চেষ্টা করতে হবে।
- এবং সেই রুটিন নিয়ে উল্লেখ করতে হবে যে আপনি কখন ঘুম থেকে উঠবেন এবং আপনার এলাম দিয়ে রাখতে হবে যেন আপনি সেই সময়েই ঘুম থেকে উঠতে পারেন।
- আপনার শরীরকে একটু ক্লান্ত রাখুন এবং হাঁটাহাঁটি বা প্রেম করুন।
- চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী মেডিসিন ও আপনার মনকে নিয়ন্ত্রণের নিয়ে আসুন।
- মেলাটোনিন যুক্ত খাবার আপনার খাদ্য তালিকায় রাখুন। যেমন: দুধ ,মাছ, বাদাম ,টক, ডিম, চেরি, ভুট্টা, মাশরুম, ডাল ইত্যাদি।
- ল্যাভেন্ডার অয়েল থেরাপি করার মাধ্যমে আপনার ঘুমের সমস্যা ও আপনার যদি মাথা ব্যথার সমস্যা থাকে তবে সেটি দূর হয়ে যাবে।
সকালে দেরি করে ঘুম থেকে উঠলে কি হয়
তোমরা যখন সকালবেলায় দেরি করে ঘুম থেকে উঠে তখন আমাদের দিনটা হয় দেরি করে শুরু এর জন্য আমাদের জীবনযাত্রার মান অনেক কম ও নিচু হয়ে যায়। কেননা আমরা আমাদের যথেষ্ট পরিমাণে কাজ ও অন্যান্য সকল কিছু সম্পূর্ণ করতে ব্যর্থ হয়ে কেননা সকাল দেরি করে ওঠার ফলে
আমরা অনেক সময় ঘুমের পিছনে নষ্ট করে দেই। আবার দেরি করে ঘুম থেকে ওঠার ফলে আমাদের মানসিক ও শারীরিক সকল দিক থেকে এই সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। আমরা যখন দেরি করে উঠব তখন আমাদের ওজন বৃদ্ধি হয়ে যাবে এবং আমরা ফুলে বা মোটা হয়ে যাব।
আবার অনেক সময় দেখা যায় যে দেরি করে ঘুম থেকে ওঠার পরে আমাদের হার্টের সমস্যা দেখা দেয় আবার অনেকের এমনটা দেখা যায় যে দেরি করে ঘুমানোর ফলে ডায়াবেটিস হয়ে গেছে কেননা দেরি করে ঘুম থেকে ওঠার পরে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও দুর্বল হয়ে পড়লে যে কারণে আমাদের অসুখ-বিসুখ লেগেই থাকে। এবং মানসিক সমস্যা যেমন বেশি আবেগী হয়ে পড়া আবার অনেক সময় ডিপ্রেশনে এর মধ্যে চলে যাওয়া। এবং দেরি করে ঘুম থেকে ওঠার ফলে সূর্য থেকে চেয়ে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়
সেটি আমরা আর পারিনা যে কারণে ভিটামিন ডি আমাদের শরীর থেকে কমতে শুরু করে। এবং আপনি চাইলে উপর থেকে জেনে আসতে পারেন অতিরিক্ত ঘুম কোন রোগের লক্ষণ।
অতিরিক্ত ঘুম আসার কারণ কি
অতিরিক্ত ঘুম আসার কারণ আমাদের হতে পারে কোন রোগের কারণে। অতিরিক্ত ঘুম কোন রোগের লক্ষণ সেই রোগের লক্ষণ অনুযায়ী এর চিকিৎসা নেওয়া উচিত তার পূর্বে অতিরিক্ত ঘুম আসার কারন কি তাও আমাদের জানা উচিত।
অতিরিক্ত ঘুম কোন কোন রোগের কারণ সেগুলো নিজে জানানো হয়েছে। অতিরিক্ত ঘুম আসার কারণ হলো:
- কিডনিতে সমস্যা হলে অতিরিক্ত ঘুমের প্রবণতা বেড়ে যায়।
- লিভারে সমস্যা হলেও বেশি বা অতিরিক্ত পরিমাণে ঘুমের প্রবণতা বেড়ে যায় দিন রাতের ঘুমিয়েও যেন ঘুম ফুরায় না।
- যাদের হার্টের সমস্যা রয়েছে তাদের ঘুম এর সমস্যা দেখা যায় এবং অতিরিক্ত পরিমাণ নিয়ে ঘুমায় তারা তবে কিছু কিছু হার্টের রোগীর এমন ধরনের সমস্যা দেখা দেয়।
- মানুষের টেনশন এবং মানসিক সমস্যার কারণে অতিরিক্ত ঘুম আসার প্রবণতা বেড়ে যায়।
- ক্যান্সার হওয়ার মাধ্যমে অতিরিক্ত ঘুমের সম্ভাবনা থাকে যে কারণে ক্যান্সার হলে মানুষ অতিরিক্ত ঘুম বেছে নাই এবং অতিরিক্ত সময় ঘুমাতে পছন্দ করে পা অতিরিক্ত পরিমাণে ঘুম হয়ে যায় তার।
- যখন একটি মানুষের শরীর ফুলে যায় বা অর্জুন অনেক বেশি বৃদ্ধি পেয়ে যায় তখন তাকে কোন কিছু করতে ভালো লাগে না যে কারণে সে অতিরিক্ত সময় ধরে ঘুমিয়ে থাকতেই পছন্দ করে।
- আমাদের শরীরে যখন থাইরায়েড হরমোনের অভাব দেখা দেয় তখন আমাদের অনেক ঘুম ঘুম ভাব হয় এবং অনেক বেশি সময় ঘুমালে ও মনে হয় যে আরো একটু ঘুমানো উচিত।
অতিরিক্ত ঘুম থেকে মুক্তির ঔষধ
আমাদের যদি অতিরিক্ত ঘুমের সমস্যা থেকে থাকে বা আমরা যদি অতিরিক্ত সময় ঘুমিয়ে কাটিয়ে দেই তবে আমরা এটি নিজের জীবনযাত্রার মান পরিবর্তন করার মাধ্যমে কমিয়ে আনতে পারি আবার অতিরিক্ত ঘুমের প্রবণতা আমরা ঔষধ খাওয়ার মাধ্যমেও কমিয়ে আনতে পারি।
তবে আমাদের উচিত আমারা যেন চিকিৎসক এর পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করবেই বা চিকিৎসকের পরামর্শ অতিরিক্ত ঘুমের সমস্যা দূর করি। তবে আপনি যদি চিকিৎসক এর পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত ঘুমিয়ে থেকে মুক্তির ওষুধ খুঁজে থাকেন তবে আপনি এসব করুন ও সেবন করতে পারেন।
নিয়ম ও কতটুকু সেবন করতে হবে সেটি চিকিৎসকের কাছ থেকে জেনে নিতে পারেন এবং সেটি জেনে নেওয়াই ভালো। অতিরিক্ত ঘুম থেকে মুক্তির ঔষধ হলো:
- Modafinil
- Pitolisant
- Solariumfetol
আপনি এ সকল ওষুধ গ্রহণ করতে পারেন তবে এ সকল ওষুধ কখনোই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া গ্রহণ করা উত্তম নয়।
কম ঘুমালে কি হয়
আমাদের যেমন করে বেশি ঘুমানোর মাধ্যমে আমাদের মানসিক ও শারীরিক সমস্যা হতে পারে। ঠিক একইভাবে আমাদের কম ঘুমানোর মাধ্যমে ও মানসিক ও শারীরিক ও শরীরের অন্যান্য অঙ্গ পতঙ্গ সমস্যা হতে পারে। যে কারণে আমাদের কখনোই বেশি ও কম ঘুমানো উচিত নয়।
অতিরিক্ত ঘুম কোন রোগের লক্ষণ তাও উপরে ব্যাখ্যা করা হয়েছে আপনি চাইলে দেখে আসতে পারেন। আমাদের এটাও জানা উচিত যে কম ঘুমালে কি হয়। কম ঘুমানোর মাধ্যমে আমাদের যে সমস্যা হয় তা হল:
- শরীরের ইনসুলিন উৎপাদনে সমস্যা হয়।
- শরীরে ফ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড বৃদ্ধি পায়।
- রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।
- ডায়াবেটিস হয়।
- উচ্চ রক্তচাপ হয়।
- শরীরে কোলেস্টেরল বৃদ্ধি পায়।
- বুদ্ধি কমে যায়।
- মানসিক রোগ দেখা দেয়।
- বেশি আবেগী হয়ে ওঠে মন।
- দীর্ঘ সময় মন খারাপ থাকতে পারে।
বেশি ঘুমালে কি মোটা হয়
বেশি ঘুমালে মোটা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে তবে এটি সরাসরি ভাবে সম্পর্কিত নয়। আপনি যখন অতিরিক্ত পরিমাণে ঘুমান তখন আপনার শরীরের কোন কাজকর্ম না করেই ঘুমাই শুধু। এবং আপনি নিজে সকল খাদ্য গ্রহণ করেন সেই খাদ্য গুলো শক্তি উৎপন্ন করে তা ব্যয় করতে পারে না।
যে কারণে সেটি আপনার শরীরে সংরক্ষিত হয়ে আপনাকে মোটা করে তোলে। আবার আপনি যখন অতিরিক্ত পরিমাণে ঘুমাবেন তখন আপনার বেশি পরিমাণে ক্যালরি রয়েছে এমন খাদ্যের উপর মনোযোগ হবে বা সেই খাবারগুলো আপনার খেতে ইচ্ছে করবে।
যে কারণে সেই খাবারগুলো গ্রহনের ফলে আপনার মোটা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আমাদের পরামর্শ
প্রিয় পাঠক ওপরে বেশি ঘুমানো বা কম ঘুমানোর বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। আপনি উপরের কোন অংশ যদি ঘুরতে না পারেন তাহলে আমাদের কমেন্ট করে জানাতে পারেন। আমরা আপনাকে ভালোভাবে বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করব। আপনি যদি বেশি ঘুমান তবে আপনার শারীরিক ও মানুষের সমস্যা দেখা দেয়
আপনি যদি কম পরিমাণে ঘুমায় তবেও আপনার শারীরিক ও মানসিক সমস্যা দেখা দিবে। যে কারণে আপনি নিয়ে ঘুমানোর একটি টাইম টেবিল ঠিক করেন। এবং সেই অনুযায়ী ঘুমান এবং উঠুন। সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন।
এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url