মুখে ব্রণের দাগ দূর করার উপায় - ব্রণের ডাক্তারি চিকিৎসা


প্রিয় পাঠক নিচে মুখে ব্রণের দাগ দূর করার উপায় ও ব্রণের ডাক্তারি চিকিৎসা বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। মুখে ব্রনের দাগ দূর করার উপায় জানার পরে আমরা খুব সহজেই বাসাতে বসেই ঘরোয়াভাবে ব্রণের চিকিৎসা করতে পারব।
মুখে-ব্রণের-দাগ-দূর-করার-উপায়-ব্রণের-ডাক্তারি-চিকিৎসা
সূচিপত্র: মুখে ব্রণের দাগ দূর করার উপায় ও ডাক্তারি পরামর্শ 

মুখে ব্রণের দাগ দূর করার উপায়- ব্রণের ডাক্তারি চিকিৎসা

ছেলে মেয়ে সকলের জন্য‌ই বয়ঃসন্ধি সময় থেকে মুখে ব্রন হতে শুরু করে। এছাড়াও কমবেশি সকল এরই মুখে ব্রন হলে দাগ থেকে যায়। যে কারণে আমাদের মুখে ব্রণের দাগ দূর করার উপায় দূর করতে হবে না হলে ব্রণের দাগ ছোপ চেহারার ও মানুষের বাহ্যিক সৌন্দর্য কমিয়ে ফেলে। আবার অনেক বেশি দাগ থাকলে দেখতে অনেক খারাপ লাগে। তাই যাদের মুখেই ব্রণের দাগ আছে সকলেই এটি দূর করতে আপরান চেষ্টা করি। 

এখন আমি মূল বিষয় নিয়ে  বলি, মুখে ব্রন হলে যে দাগ গুলো থেকে যায় তা কীভাবে দূর করবেন এবং এটির সঠিক চিকিৎসা কী হতে পারে। মূলত ব্রন একটি ক্ষণস্থায়ী একটি সমস্যা। যা দ্রুতই ঠিক হয়ে যায় তবে অনেক সময় এটির কিছু দাগ এবং ছোপ আমাদের চেহারার উপর রয়ে যায়। 


মুখে ব্রণের দাগ দূর করার উপায় অবলম্বন করলে খুব দ্রুতই দাগ সবগুলো চলে যায়। মূলত পানি কম খাওয়ার কারণে বা শরীরে ডিহাইড্রেশন হলে ব্রণ হয় এছাড়াও ভিটামিন সি এর অভাবে ব্রণ হয়ে থাকে। এ থেকে মুক্তি পেতে বেশি বেশি ভিটামিন সি জাতীয় খাবার যেমন লেবু কমলালেবু ইত্যাদি খেলে দ্রুত সেরে যায় এবং দাগ ছোট থাকে না।

এছাড়াও দাগ ছোপ কমানোর জন্য ডাক্তারের বিভিন্ন ক্রিম ও ওষুধ রয়েছে। এগুলো ব্যবহার করলেই দ্রুত দাগগুলো চলে যায়।

মুখে ব্রণ হলে কি করা উচিত

ব্রণ মূলত চেহারায় আসতে শুরু করে বয়ঃসন্ধিকাল থেকে। এটি একটি চিরস্থায়ী সমস্যা নয়। অল্প কিছুদিনের ব্যবধানেই এটি একা একাই সেরে যায়। মুখে ব্রণ হলে কি করা উচিত তাহলো: বেশি বেশি পানি পান এবং লেবু বা ভিটামিন সি জাতীয় খাবার খেলে দ্রুতই এটি সেরে যায়। মুখে ব্রণের দাগ দূর করার উপায় ঘরোয়া হিসেবে মুখে নিম পাতা বেটে লাগানো অথবা হলুদ পেটে লাগানো ইত্যাদি করলে দ্রুত এটি সেরে যায়। মুখে ব্রণ হলে এটিকে খামচানো যাবে না। 

নয়তো এটি শুকিয়ে যাওয়ার পরে দাগ থেকে যায় যা আমাদের চেহারার সৌন্দর্য কমিয়ে তোলে। ব্রন যেহেতু একটি চর্ম জাতীয় সমস্যা তাই ত্বকের যথাযথ যত্ন নিতে হবে। মুখে ব্রণ হলে ময়লা হাতে বারবার ব্রণ ছোঁয়া যাবে না। হাতের নখ দিয়ে বা কোন সুই দিয়ে একটি গালা যাবে না।

পয়জেন অথবা জীবাণু আছে এমন কোন নেকড়া দিয়ে মুখ মুছা যাবে না। তোকে কোন ক্ষতিকর কেমিক্যাল জাতীয় কিছু মাখা যাবে না। ক্ষতিকর কেমিকাল ব্রণ সারিয়ে তোলে ঠিক আছে তবে চেহারার চামড়া পুড়িয়ে ফেলে। মুখে ব্রণ হওয়াটা কোন অস্বাভাবিক বিষয় নয় তবে যদি দাগ থেকে যায় সেটি আমাদেরকে লোক মুখে লজ্জায় ফেলে।

তাই চেহারায় ব্রণ হলে এটির যথাযথ চিকিৎসা করতে হবে যাতে কোন দাগ ছোপ না হয়। এছাড়াও সতর্ক থাকতে হবে যাতে কোন প্রয়োজন জাতীয় কিছু না লেগে যায়। মুখে ব্রণ হলে কি করা উচিত তার সকল তথ্য জানানো হয়েছে আপনি এগুলো অবলম্বন করতে পারেন।

মুখে ব্রণের দাগ দূর করার ক্রিম

বর্তমান সময়ে মুখে ব্রণের দাগ দূর করার জন্য বিভিন্ন ধরনের ক্রিম রয়েছে। এর মধ্যে বেশির ভাগই ক্ষতিকর কেমিক্যালযুক্ত। দ্রুত মুখের ব্রণের দাগ দূর করতে আমরা ক্ষতিকর কেমিক্যালযুক্ত ক্রিম ব্যবহার করে থাকি যার কারণে আমাদের চেহারার সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যায় অথবা দ্রুত ব্রণের দাগ দূর হলেও পরবর্তীতে চেহারার চামড়া কুচুকে যায়। 

তবে এখানে কিছু কার্যকরী ক্রিমের নাম উল্লেখ করা হলো-
  • Availability একনি ক্রিম।
  • নোভাক্লিয়ার একনি ক্লিনজার।
  • নরম্যাকনে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ক্লিনজিং ফেসিয়াল জেল‌।
  • নরম্যাকনে একনি স্পট ট্রিটমেন্ট।
  • ডার্মাডিকস অ্যান্টি-একনি সিরাম।
  • ওয়ান নাইট একনি ক্রিম।
এ সকল ক্রিম চামড়ার উপরিভাগের একটি পাতলা আবরণ তুলে ফেলতে সাহায্য করে। এ সকল ক্রিম অন্যান্য চর্ম রোগের দাগ দূর করতেও সাহায্য করে।

লেবু দিয়ে ব্রণের দাগ দূর করার উপায়

মুখে ব্রণের দাগ দূর করার উপায় বা ঘরোয়া উপায় অবলম্বন করা সম্ভব। এর মধ্যে অন্যতম উপায় হচ্ছে লেবু দিয়ে ব্রণের দাগ দূর করা। লেবু একটি ভিটামিন সি তে ভরপুর ফল। ভিটামিন সি মূলত বিভিন্ন ঘা ও ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। শুধু একটি লেবু রস করে প্রতিদিন খেলে ত্বকের অনেক সমস্যা দূর হয়। 
লেবু-দিয়ে-ব্রণের দাগ-দূর-করার -উপায-জানুন়
এছাড়াও লেবুর খোসা দিয়ে ফেস মাস্ক বানিয়ে মুখে লাগালে চেহারার অনেক দাগ দূর হয়ে যায়। লেবুর রস দিয়ে তৈরি ফেস মাস্ক মুখের ব্রণের দাগের উপর লাগালে ব্রণের দাগ দূর হবে অনেক তাড়াতাড়ি। চেহারার যত্নে লেবুর অনেক ভূমিকা রয়েছে। লেবু চা খেলে আমাদের শরীরের অনেক উপকার হয়।

 যেমন মাথা ব্যথা দূর হয় এছাড়াও ওজন কমাতে সাহায্য করে আর তাছাড়া চেহারার দাগ দূর করতে বা চোখের নিচে ডার্ক সার্কেল মুছতে লেবুর ভূমিকা অনেক। লেবু মূলত আমাদের শরীরে একটি অ্যাসিড হিসেবে কাজ করে যেটি কোন ক্ষতিকর এসিড নয়। সামান্য কিছুটা লেবুর রসের সাথে একটু মধু মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে 20 মিনিট মত রাখবেন।

এরপর ধুয়ে ফেলবেন। এতে ব্রণের দাগ ও চোখের নিচের কালচে দাগ দ্রুত মুছে যাবে। এছাড়াও ব্রণের দাগ দূর করতে চিনি থেকে দূরে থাকবেন। অতিরিক্ত চিনি চেহারায় ব্রণ তৈরি করে।

ব্রণের জন্য তুলসী পাতা

তুলসী পাতা খুবই উপকারী একটি উপকরণ। এতে রয়েছে বিভিন্ন অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান যা আমাদের শরীরের ব্যাকটেরিয়া ও জীবাণু দূর করতে সাহায্য করে। তুলসী পাতার রস চেহারায় লাগালে ব্রণের বিভিন্ন সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। 

তুলসী পাতার সাথে মধু বা  অ্যালোভেরা জেল অথবা হলুদ আর নয়তো নিম পাতা বেটে মুখে লাগালে ব্রণের দাগ দূর হয়। এছাড়াও তুলসী পাতা ঠান্ডা কাশি কমাতে সাহায্য করে। তুলসী পাতার যে কোন মিশ্রণ চেহারায় লাগাতে গেলে।

সেটি চোখের থেকে একটু দূরে লাগাতে হবে কারণ তুলসী পাতায় থাকে একপ্রকার এসিড যা চোখে গেলে জলন সৃষ্টি করে। তাই এটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটু সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত।

ছেলেদের ব্রণ দূর করার ঔষধের নাম

ব্রণ থেকে দাগ হওয়াটা কোন অস্বাভাবিক বিষয় নয় তবে এই দাগ দূর করতে বিভিন্ন ধরনের ঔষধ আমরা সেবন করে থাকি এর মধ্যে বেশির ভাগই হয়ে থাকে চামড়ার জন্য ক্ষতিকর। তবে ব্রণের দাগ দূর করতে যে সকল ঔষধ অনেক উপকার করে থাকে তার মধ্যে কিছু ঔষধ হলো ডারমাসল, বেটনোভেট সি এল। প্রাকৃতিক ওষুধ হিসেবে কাজ করে অ্যালোভেরা জেল ,অসফি সিরাম , টি অয়েল ইত্যাদি।
ছেলেদের-ব্রণ-দূর-করার-ঔষধের-নাম
অ্যালোভেরা জেল: অ্যালোভেরাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। অ্যালোভেরা জেলের কোন ক্ষতিকারক পদার্থ থাকে না আর তাই নির্দ্বিধায় এই জেলটি ব্যবহার করলে চেহারার ব্রণের দাগ দ্রুত দূর হয়।

এছাড়াও ছেলেদের স্ক্রিন মোটা হওয়ায় তাতে চাইলেই নিমপাতা বা হলুদ বেটে লাগালে চেহারার উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পাবে এবং চেহারাতে থাকা ব্রণের দাগ দূর হবে।

প্রতিদিন মধু ও হলুদ মুখে লাগানো যাবে কি?

আমরা সকলেই কমবেশি চেহারার যত্ন করতে বেশ সাচ্ছন্দ্য বোধ করি। তবে রূপচর্চা করতে মধু ও হলুদের অবদান অপরিসীম। মধু ও হলুদ আমাদের মুখের নানা ধরনের দাগ ছোপ দূর করতে সাহায্য করে এছাড়াও চেহারার উজ্জ্বলতা বাড়ায়। অনেকের মুখে ছোট বড় গর্ত থাকে যা দূর করতে মধুও হলুদের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে।

মধু ও হলুদ যে শুধু খাবার জন্যই ব্যবহৃত হয় তা কিন্তু নয়। রূপচর্চার ক্ষেত্রে মধু একটি অন্যতম উপাদান। ছেলে মেয়ে উভয়ই চাইলে মধু এবং হলুদ দিয়ে ফেস মাস্ক বানিয়ে মুখে লাগাতে পারেন। এটি খেলেও যেমন উপকারিতা পাওয়া যায় ঠিক তেমনি মুখে লাগালে বিভিন্ন চর্মরোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। 

সারাদিন বাইরে থাকা অবস্থায় চেহারায় যত ধুলো বালি বা অন্যান্য ব্যাকটেরিয়া লেগে থাকে তা দূর করতে মধু ও হলুদের অনেক ভূমিকা রয়েছে। অনেক সময় চিকিৎসকেরা ও চর্ম রোগের মেডিসিন হিসেবে মধু ও হলুদ ব্যবহার করতে বলে থাকেন। হলুদের রয়েছে অনেক প্রকার অ্যান্টিবায়োটিক উপাদান। 

এটি চামড়ার বিভিন্ন প্রদাহ সৃষ্টি থেকে মুক্ত রাখে। মধু চেহারার উজ্জ্বলতা ধরে রাখে এবং চামড়া টানটান রাখে। চেহারার বিভিন্ন পুরাতন দাগ ও সমস্যা দূর করতে মধু ও হলুদের বিশেষ অবদান রয়েছে। তাই দৈনন্দিন জীবনে মধু হল চাইলেই রূপচর্চার ক্ষেত্রে চেহারায় ব্যবহার করা যাবে এছাড়াও নানা ধরনের চর্ম রোগ থেকে মুক্তি পেতে ও এটি ব্যবহার করা যাবে।এতে ত্বকের কোনো ক্ষতি  হ‌ওয়ার আশংকা নেই।

আমাদের পরামর্শ 

মুখে ব্রণের সমস্যার জন্য আমরা অনেকেরই অনেক ধরনের সমস্যায় ভুগি। এটা আমাদের চেহারা নষ্ট করে দেয়। উপরের মুখে ব্রণের দাগ দূর করার উপায় এর পরামর্শ অনুযায়ী ব্রণের চিকিৎসা করতে পারেন আপনি। এবং আপনার মুখে যদি অতিরিক্ত পরিমাণে ব্রণ থাকে। এবং আমাদের পরামর্শ অনুযায়ী ঠিক না হয়। তবে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন। 

মুখে ব্রণের দাগ দূর করার উপায় এই আর্টিকেলের ওপরের কোন বিষয় যদি না বুঝতে পারেন তবে অবশ্যই আমাদের কমেন্ট করে জানাবেন। আমরা সেটি ভালোভাবে বিস্তারিত জানানোর চেষ্টা করব। সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url