রোজা ভঙ্গের কারণ - যে ভুলগুলো করলেও রোজা ভাঙবে না
আমরা সকলেই রোজা করি মহান আল্লাহ তায়ালাকে খুশি করার জন্য। কিন্তু আমরা যদি এমন কোন কিছু করে ফেললি যাতে আমাদের রোজা ভেঙ্গে যাবে। সেটা আমাদের কখনোই করা উচিত নয়।
সূচিপত্র:রোজা ভঙ্গের কারণ - যে ভুলগুলো করলে ও রোজা ভাঙবে না
- ভুল করে কিছু খাইলে
- বিবাহিতদের মিলন
- স্বপ্নদোষ কি রোজা ভঙ্গের কারণ
- রোজা ভঙ্গের কারণ রক্ত
- বমি করা
- নাক দিয়ে রক্ত পড়া
- দাঁত তুলে ফেলা
- রোজা থেকে ইনজেকশন দেওয়া যাবে কিনা
- কিছু কমন জিনিস আছে যা করা যাবে
- খাবারের স্বাদ চেক করা
- এনজিওগ্রাম করা
রোজা ভঙ্গের কারণ - যে ভুলগুলো করলে ও রোজা ভাঙবে না
ভুল করে কিছু খাইলে
ভুল করে যদি কেউ খায় বা জোর করে কেউ যদি খাওয়াই দেয় তাইলে তার রোজা ভাঙবে না।
বিবাহিতদের মিলন
বিবাহিতরা যদি শারীরিক সম্পর্কের গিয়ে সিমেন আউট হয়, তাইলে তাদের রোজা ভেঙ্গে যাই। তবে এমনি কিস করা, হাগ করা, স্বামী স্ত্রীর মধ্যে এসব সম্পর্কের কারণে রোজা ভাঙ্গে না। এগুলো যদি দিনের বেলায় ঘটে তাহলে রোজা ভাঙবে না। তবে এগুলো না করাই উত্তম কারণ এগুলোর কারণে ফিজিক্যালি যৌন উত্তেজিত হয়ে সহবাসের সম্ভাবনা রয়েছে।
স্বপ্নদোষ কি রোজা ভঙ্গের কারণ
ঘুমের মধ্যে এমন কিছু দেখলেন যার কারণে আপনার সিমেন আউট হলো। এর কারণে আপনার রোজা ভাঙবে না, কারণ আপনি ঘুমের মধ্যে ছিলেন। এটি আপনি ইচ্ছাকৃতভাবে করেননি এইটা সম্পূর্ণ আল্লাহর হাতে, তবে ইচ্ছাকৃতভাবে করলে রোজা ভেঙ্গে যাবে।
রোজা ভঙ্গের কারণ রক্ত
রোজা থাকা অবস্থায় ব্লাড টেস্ট করা যাবে। এতে আমাদের রোজা ভাঙ্গে না, এক দুই সিরিজ রক্ত নিলে রোজা ভাঙ্গে না। তবে বেশি পরিমাণে রক্ত নিলে, আপনি চাইলে রোজা ভাঙতে পারবেন। পরে কাজা রোজা আদায় করে নিলেই হবে।
বমি করা
অনিচ্ছাকৃতভাবে বমি হইলে আপনার রোজা ভাঙবে না, তবে যদি আপনি ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করেন তাহলে আপনার রোজা ভেঙ্গে যাবে।
নাক দিয়ে রক্ত পড়া
নাক দিয়ে রক্ত পড়লে রোজা ভাঙ্গে না, তবে যদি বেশি পরিমাণে রক্ত বের হয়। তারপরে যদি আপনি ক্লান্ত অনুভব করেন তাইলে আপনি রোজা ভাঙতে পারেন। পরে আপনি কাজা রোজা টি আদায় করে নিবেন।
দাঁত তুলে ফেলা
রোজা থেকে দাঁত ফেলতে পারবেন বা রিমুভ করতে পারবেন। তবে খেয়াল রাখবেন যাতে করে বেশি পরিমাণে রক্ত না ঝরে।
রোজা থেকে ইনজেকশন দেওয়া যাবে কিনা
রোজা থেকে কিছু কিছু ইনজেকশন দেওয়া যাবে। আবার কিছু কিছু ধরনের ইনজেকশন দেওয়া যাবে না। যেই ইনজেকশন গুলো দেওয়া যাবে না: এনার্জিকাল ইনজেকশন দেওয়া যাবে না, যে ইনজেকশনে আপনার শরীরে ফুড সাপ্লিমেন্ট হয় বা আপনি শরীরে এনার্জি পান এমন ইনজেকশন দেওয়া যাবে না।
এমনও ইনজেকশন আসে যা দিলে আপনার কয়েকদিন পর্যন্ত খিদা লাগবে না। বা আপনি না খেয়ে থাকতে পারবেন এমন ধরনের ইনজেকশন দেওয়া যাবে না।
তবে পেইন কিলার বা ব্যথা নাশক ইনজেকশন আপনি দিতে পারবেন। আপনি এন্টি বায়োটিক ইনজেকশন দিতে পারবেন।এমন ইনজেকশন দিতে পারবেন যাতে আপনার শরীরে কোন শক্তি উৎপাদন হয় না বা আপনার পেটে কোন কিছু পৌঁছায় না।
কিছু কমন জিনিস আছে যা করা যাবে
টুথপেস্ট দিয়ে দাঁত ব্রাশ করা যাবে। তবে বেশি শক্তিশালী টুথপেস্ট দিয়ে রোজা থাকা অবস্থায় দাঁত ব্রাশ না করাই উত্তম। মেসওয়াক ব্যবহার করা উত্তম দিনের বেলায়। রোজা থাকা অবস্থায় টুথপেস্ট, মাউথ ওয়াজ ব্যবহার করা যাবে তবে না করা উত্তম।
রোজা থাকা অবস্থায় আতর মাখা যাবে, পারফিউম মাখা যাবে, আই ড্রপ দেয়া যাবে, কাজল দেওয়া যাবে, আই লেনা দেয়া যাবে, এগুলোতে রোজা ভাঙ্গে না।
ডায়াবেটিসের রোগীরা ইনসুলিন দিতে পারবেন এতে করে রোজা ভাঙবে না।
খাবারের স্বাদ চেক করা
খাবারের যদি লবণ চেক করা হয় তাহলে রোজা ভাঙবে না, যদি অনেক লোকের জন্য খাবার রান্না করা হয় তাহলে, যিনি রান্না করছেন খাবারের স্বাদ চেক করতে পারবেন, জিহ্বাতে নিয়ে চেক করে গুলি করে ফেলে দিতে পারবেন। এতে করে রোজা ভাঙবে না।
তবে এটি বাসা বাড়িতে রেগুলার রান্নার কাজে ব্যবহারে প্রযোজ্য নয়। এটি শুধু আপনি কোন জরুরী রান্নাতে ব্যবহার করতে পারবেন।
এনজিও গ্রাম করা
রোজা থাকা অবস্থায় এনজিও গ্রাম করা যাবে, এতে আপনার রোজার ভাঙবে না।
এগুলো হলো যুক্তি সম্পন্ন ও হাদিস থেকে পাওয়া এগুলো করলে আপনার রোজা ভাঙবে না।
এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url