দেশি মুরগি পালন করে যেভাবে লাভবান হবেন - চিকিৎসা জানুন
দেশি মুরগি পালন করে যেভাবে লাভবান হবেন - চিকিৎসা জানুন
দেশি মুরগির পালন করে লাভবান হওয়ার জন্য আমাদের অনেকগুলো বিষয় মেনে চলতে হবে কেননা যদি আমরা ভুল নিয়মে দেশে মুরগি পালন করি তা হলে আমাদের কোনভাবেই লাভবান হতে পারব না। এর জন্য আমাদের কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হবে। যেমন খামার করার পরিকল্পনা আমরা যদি খামার করতে ভুল করি তাহলে আমরা সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত হব এই জন্য যা যা অনুসরণ করা লাগবে তাহলে:
- স্থান: প্রথমেই আমাদের খামারের পরিকল্পনা করতে হবে। খামারটা এমন ভাবে করতে হবে যেখানে উঁচু স্থান এবং পরিবেশ দূষিত হয় না এমন স্থানে খামারটি করতে হবে। এবং এমন স্থানে খামার করতে হবে যে স্থানে আলো বাতাস দূষিত নয় এমন স্থানে করতে হবে।
- বাচ্চা :আমাদের বাচ্চা নির্বাচন করতে হবে এমন বাচ্চার নির্বাচন করতে হবে যেটি সুস্থ থাকবে প্রথম দিন থেকেই এমন ধরনের বাচ্চা নিয়ে খাওয়া শুরু করতে হবে। এবং প্রথমে অনেক বেশি বাচ্চা নিয়ে খামার না করাই ভালো। প্রথমে অভিজ্ঞতা গ্রহণ করে তারপরে অনেক বেশি করে খামার করা উচিত। এতে ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।
- খাদ্য: মুরগিকে ছোট থেকে ভালো মানের খাবার খাওয়ানো উচিত এবং যেই খাবারে শক্তিশালী হবে মুরগি সেই ধরনের খাবার খাওয়ানো উচিত। বাসায় বানানো অনেক মিশ্র খাবার দিয়ে খাদ্য বানানো কিংবা ফি ড এর সাথে অন্যান্য কিছু যে খাবার তৈরি করা উচিত। কেননা খাবার ভালো থাকলে মুরগির ডিম ও মাংস সঠিক ও পুষ্টিকর হয়ে উঠবে।
- মুরগির স্বাস্থ্য: সব সময় মুরগীর স্বাস্থ্যের উপর খেয়াল রাখতে হবে যেন কোনোভাবেই মুরগির স্বাস্থ্যের কোন ক্ষতি না হয়। সব ধরনের দূষণ থেকে মুরগি গুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে এবং পরিবেশের সাথে যেন মানিয়ে নিতে পারে এমন ভাবে মুরগিকে বড় করতে হবে। এবং মুরগির স্বাস্থ্য রক্ষা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- ডিম ও মাংস: আপনি যদি মুরগির ডিম বিক্রি করতে চান তবে আপনার মুরগিকে আলাদাভাবে এবং আলাদা জাতের মুরগি পালন করতে হবে। আর যদি আপনি মাংসের জন্য মুরগি পালন করেন তবে আপনাকে আলাদাজাত এবং আলাদা খাবার খাওয়াতে হবে যে খাওয়ার খাওয়ালে মুরগি অনেক তাড়াতাড়ি বৃদ্ধি পাবে এমন ধরনের খাবার খাওয়াই সেই মুরগির মাংস হিসেবে বিক্রি করতে হবে।
- বাজার পরিচালনা: মুরগির ডিম এবং মাংস বিক্রি করে লাভবান হওয়ার জন্য সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বাজার পরিচালনা আপনাকে এমন ভাবে বাজার পরিচালনা করতে হবে যেন যেটা বাজারের সঠিক মূল্য সেই সঠিক মূল্য এবং আপনি কখন এবং কম দামে মুরগি ও মুরগির ডিম বিক্রি করবেন তা পরিচালনা করা।
- এবং মুরগির রোগ বালাই থেকে মুরগিকে অনেক দূরে রাখা। যদি মুরগির সঠিক নিয়ম এবং ভালো ডাক্তার না দিয়ে মুরগির রোগের চিকিৎসা করান তবে আপনি অনেক লস এর মধ্যে পড়ে যাবেন। যে কারণে মুরগির রোগ নির্ণয় করে তার চিকিৎসা দেওয়া অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
দেশি মুরগি পালন পদ্ধতি
দেশি মুরগি পালনের ক্ষেত্রে এর পদ্ধতি জেনে মুরগি পালন করা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। খাবার দেওয়ার নিয়ম। ওষুধ খাওয়ানোর নিয়ম। ডিম সংগ্রহের নিয়ম। পরিবেশ পরিষ্কার করার নিয়ম। এমন অনেক নিয়ম হাতে কলমে শিখে তারপর মুরগির পালন করার চিন্তা করা অনেক ভালো। কিন্তু তারপরেও যদি নিজের নিজে নিজেই সবকিছু শিখতে চান।
তবে আপনাকে অবশ্যই 50 থেকে 100 এর মত মুরগি বাচ্চা নিয়ে তারপরে তা থেকে ভালো কিংবা আপনি মুরগির বাচ্চা না নিয়ে বড় মুরগি নিয়েও এই পদ্ধতি গুলো শিখে তারপর মুরগির খামার করবেন জদি নতুন হয়ে থাকেন তাহলে। মুরগির যদি রোগ হয় তবে মুরগিকে ভ্যাকসিন কিংবা টিকা দিতে হয়।
মুরগি পালন করার জন্য সর্বপ্রথম প্রথমেই বাচ্চা নিয়েছে তাদের টিকা দিতে হয়। ন্যু ক্যাসেল, ডিভি এ, ব্রুডার পক্স দেওয়ার পরে খাঁচার মধ্যে নেওয়া প্রয়োজন। এই ওষুধগুলো দেওয়ার মাধ্যমে মুরগির ভাইরাসে আক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা কমে যাই।
দেশি মুরগির ফার্ম যেভাবে করবেন
এজন্য মুরগির যে ঘর করবেন কিংবা খাঁচাতে যদি মুরগি করেন সেটি বড় করতে হবে এবং খোলামেলা হতে হবে। যেমন আপনি যদি দেশি মুরগি খাঁচার মধ্যে পালন করেন তবে আপনাকে দুই ফিট লম্বা একটি খাঁচার মধ্যে এবং উচ্চতায় এক ফিট এমন খাঁচার মধ্যে দুইটি মুরগি পালন করতে পারবেন। তবে দেশী মুরগী খাঁচার মধ্যে পালন না করাই ভালো।
এগুলো খোলা মাঠে কিংবা খোলা খামারের মধ্যে পালন করা ভালো। ৫ ফুট জায়গা মধ্যে আপনি দশটি মুরগি রাখতে পারবেন। এমনভাবে হিসাব করে মুরগি পালন এর জন্য ঘর কিংবা খাতা তৈরি করুন।
দেশি মুরগির বাচ্চার ঔষধের তালিকা
মুরগির বাচ্চা কে ছোট থেকে বড় করার অনেক অসুবিধা রয়েছে একটু ভুলভাল ওষুধ এবং ভুল চিকিৎসার কারণে সব বাচ্চা মারা যেতে পারে এর জন্য অনেক সাবধানে সাথে এর চিকিৎসা করা এবং ওষুধ প্রয়োগ করা ভালো।
আপনি যদি একটি ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ প্রয়োগ করেন তবে আরো ভালো হয়। তবে আমরা আপনাকে ছোট বাচ্চাকে কি ওষুধ খাওয়ার সময় লাগবে তা বিষয়ে জানাচ্ছি।
- বাচ্চা যখন জন্ম নেবে তার প্রথম দিন থেকেই বাচ্চাকে ওষুধ খাওয়াতে হবে বাচ্চা জন্ম নেওয়ার দুই থেকে তিন ঘন্টা পরে পানির সাথে ওষুধ মিশাতে হবে। যে ওষুধ মিশাবেন লাইসোফিট বা গ্লুকোজ।
- এবং ২-৪ দিন পর্যন্ত এমক্সাসিলিন পানির সাথে মিশে খাওয়াতে হবে।
- এবং তিন থেকে চার দিনের মধ্যে রানীক্ষেতের ভ্যাকসিন করে দিতে হবে যাতে মুরগিকে ভাইরাসে আক্রমণ না করে। এবং সাথে ব্রংকাইটিস এর ভ্যাকসিনো করে দিতে হবে।
- এবং দশ দিন থেকে ১২ দিনের মধ্যে গামবোরা লাইভ এর ভ্যাকসিন করে দিতে হবে।
- বাচ্চা থাকা অবস্থায় এই কিছু ভ্যাকসিন করলেই হয়। বাচ্চা হওয়ার পরে ১০ থেকে ১২ দিন পর্যন্ত মুরগিগুলোকে বাচ্চা হিসেবে ধরা হয়।
দেশি মুরগির যে কারণে ঝিমানো
দেশি মুরগির ঝিমানোর অনেক ধরনের কারণ রয়েছে যে কারণে দেশি মুরগির ঝিমায়। দেশি মুরগির ঝিমানোর প্রথম কারণ হলো রোগবালায় আক্রমণ করা। যেসব রোগের কারণে দেশি মুরগির ঝিমায় তা হল।
- নিউক্লিয়াস ডিজিজ।
- এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা।
- সালমোনেলা।
- এন্টেরাইজ।
দেশি মুরগি অতিরিক্ত ঠান্ডা লাগার কারণেও ঝিমাই। আবার যদি অতিরিক্ত ঠান্ডা লাগে তবুও দেশি মুরগি ঝিমাই যদি গরমের সময় দেশি মুরগির ঝিমায় তবে বুঝতে হবে তার পানির শূন্যতা রয়েছে শরীরে যে কারণে দেশি মুরগি গরমের সময় ঝিমায় আবার যদি ঠান্ডার সময় দেশি মুরগি ঝিমায় তবে সেটি হতে পারে তাকে ঠান্ডা লেগেছে যে কারণে সে ঝিমাচ্ছে।
আবার অনেক সময় দেখা যায় যে দেশের মুরগির শরীরে প্রোটিন ও ভিটামিন এর অভাব রয়েছে যেমন ভিটামিন ডি ভিটামিন বি কমপ্লেক্স এবং অন্যান্য পুষ্টি যেমন ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের অভাবে দেশি মুরগির শরীর দুর্বল হয়ে পড়ার কারণে দেশি মুরগির ঝিমাই।
দেশি মুরগি যদি ডিম পাড়ার বয়স হয়ে যায় এবং ডিম পাড়ার বয়সে যদি সিমের কি ঝিমায় তবে এটা খেয়াল রাখতে হবে যে একটি মুরগি স্বাভাবিকভাবে ডিম পাড়তে পারছে কি এবং যদি ঝিমায় তবে খেয়াল করতে হবে যে মুরগিটির ডিম তার শরীরে আটকে গেছে কিনা অনেক সময় দেশি মুরগির ডিম পাড়ার সময় ডিম আটকে গেলে ঝিমাই।
দেশি মুরগির ভ্যাকসিন তালিকা
দেশি মুরগির বয়স অনুযায়ী এবং রোগ অনুযায়ী সব ধরনের টিকা দিতে হবে একটি ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী এ সকল টিকা প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত দেওয়া প্রয়োজন তা হল।
- রানীক্ষেত।
- গামবোরো।
- ফাউল পক্স।
- ফাউল কলেরা।
রোগের টিকা দিতে হবে।
দেশি মুরগিকে যে ফিট খাওয়াবেন এবং দাম
আমাদের পরামর্শ
দেশি মুরগি পালন করার ক্ষেত্রে আমাদের অনেক সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে হবে এবং কোন রোগ হলে আমাদের অবশ্যই প্রথমে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করতে হবে এবং ওষুধ খাওয়াতে হবে এবং বাচ্চার প্রথম দিন থেকে যে ডাক্তার দিয়ে মুরগি দেখাবেন সেই ডাক্তার দিয়েই প্রত্যেকবার মুরগি দেখানো উচিত।
মুরগি পালন করার মাধ্যমে যেমন আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন হচ্ছে দেশের তা বাদেও আমরা লাভবান হচ্ছি এবং আমাদের দেশের সকলের প্রোটিন এর অভাব দূর হচ্ছে এর জন্য আমরা সবাই উদ্যোক্তা হই এবং সুস্থ থাকি ভালো থাকি।
এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url