শান্তিতে ঘুমানোর দোয়া ও ঘুমানোর আগে যে কাজ করবেন না
আমাদের সুস্থ থাকার জন্য আমাদের শান্তিতে ঘুমানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা একজন মানুষের যখন ঠিকমতো ঘুমা হবে। তখন সে ঠিকমতো কাজকর্ম, খাওয়া দাওয়া, ঘোরাফেরা সবকিছু করতে পারবে। এর জন্য আমাদের জানা প্রয়োজন শান্তিতে ঘুমানোর দোয়া।
আমরা যদি শান্তিতে ঘুমানোর দোয়া পড়ে ঘুমায়। তাহলে আমাদের প্রত্যেকটি রাতে হবে সুন্দর ও ঘুম হবে ভালো। এর জন্য আমাদের শান্তিতে ঘুমানোর দোয়া পড়ে ঘুমানো উচিত প্রত্যেকটা দিন ও রাত।
সূচিপত্র: শান্তিতে ঘুমানোর দোয়া
শান্তিতে ঘুমানোর দোয়া ও ঘুমানোর আগে যে কাজ করবেন না
ঘুমানোর সময় আপনি আয়াতাল কুরসি পড়বেন। আপনি যখন ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসি পড়বেন, তখন আল্লাহর পক্ষ থেকে ফেরেশতা সারারাত আপনাকে পাহারা দিবে. যেন আপনাকে কোন বিপদ-আপদ না স্পর্শ করে।
তারপরে আপনি সূরা বাকারার তিনটি আয়াত পড়বেন ,মহানবী (সঃ) বলেছেন ,যে ব্যক্তি রাতের বাকারার তিনটি আয়াত পড়ে ঘুমাবে সে ব্যক্তি সারারাত নফল নামাজ পড়ার সোয়াব পাবে। তারপরে আপনি তিন কুল পড়বেন (যথা সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক, সূরা নাস) এই তিন কুল পড়ে ঘুমালে কোন দৃশ্য কর ও অদৃশ্য কর কোন কিছু আপনার ক্ষতি করবে না।
আল্লাহর পক্ষ থেকে আপনাকে প্রটেকশন করবে। আপনি এই তিন কুল তিনবার পড়ে পুরো শরীর মাসাহ করবেন, তারপরে আপনি সূরা কাফিরুন পড়বেন এতে করে আপনার শিরিক গুনাহ থেকে আপনি বিরত থাকবেন।
শান্তিতে ঘুমানোর দোয়া
আমরা সবাই চাই আমরা যেন রাতে শান্তিতে ঘুমাইতে পারি .এর জন্য আমাদের সবাইকেই শান্তিতে ঘুমানোর দোয়া পড়ে ঘুমানো উচিত। শান্তিতে ঘুমানোর দোয়া পড়ে ঘুমালে আপনার আমার সবারই শান্তিতে ঘুম হবে।
আপনি অজু অবস্থায় ঘুমানোর অভ্যাস করুন, বিছানাতে শুয়ে আপনি আল্লাহুম্মা বিসমিকা আমুঊতু আহিয়া এই দোয়া টি তিন বার পড়বেন।
ঘুমানোর আগে যেগুলি করবেনা
শান্তিতে ঘুমানোর জন্য আপনি প্রথমত ওযু করে এসে এশার নামাজ পড়ে নিবেন ।
নামাজ পড়ার মাধ্যমে আপনার মনের মধ্যে একটি অন্যরকম শান্তি কাজ করবে ,যে শান্তি টি আপনি টাকা দিয়েও কিনতে পারবেন না।
নামাজ শেষে একটু জিকির আজগার করে ঘুমানোর জন্য প্রস্তুতি নিবেন। এইটা খেয়াল রাখবেন যেন আপনি নয়টার আগেই বিছানাতে শুইয়ে যান, এতে করে আপনার ঘুম আসতে একটু হলেও সাহায্য করবে, তারপরেই পড়তে হবে শান্তিতে ঘুমানোর দোয়া ও তসবিহ।
রাতে ঘুম আসে না কেন
কেউ যখন রাতে শান্তিতে ঘুমাতে পারে না ,তখন তাকে দৈনন্দিন জীবনে অনেক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। যখন রাতে শান্তিতে ঘুমাতে পারা যায় না , তখন দিনের বেলায় কাজকর্মের সময় ঘুম চলে আসে। সেটি অনেক অসুবিধা জনক সমস্যা।
ঘুম না আসার কারণ আমরা ঘুমানোর আগে সঠিক নিয়ম ও শান্তিতে ঘুমানোর দোয়া পড়ে ঘুমায় না। এই কারণে আমাদের ঘুম আসতে সমস্যা হয় , আপনি যদি শান্তিতে ঘুমানোর দোয়া পড়ে ঘুমান তাইলে অবশ্যই আপনার ঘুম আসবে।
শান্তিতে ঘুমানোর দোয়া তসবিহ সমূহ
রাতে শান্তিতে ঘুমানোর দোয়া ও তসবিহ পড়া অতি গুরুত্বপূর্ণ। তসবিহ পড়ার কারণে আপনার ঘুম আসতে সাহায্য করবে। সুবহানাল্লাহ ৩৩ বার, আলহামদুলিল্লাহ ৩৩ বার .আল্লাহু আকবর ৩৪ বার আপনি এই তসবিহ টি প্রত্যেকদিন আমল করলে আল্লাহর পক্ষ হতে আপনার শরীরে শক্তি আসবে ও আপনার শরীরের সারা দিনের ক্লান্তি দূর হবে।
অনেক বড় বড় আলেমরা বলেন যে এই তসবিরটি আমল করলে শরীর সুস্থ থাকে রোগব্যাধি শরীরে আক্রমণ করে না।
আরো যেগুলো দোয়া পড়তে পারেন
- সূরা মূলক।
- সূরা ইখলাস।
- সূরা ফালাক।
- সূরা নাস।
যে কারণে রাতে ঘুম আসে না
আমার অনেকই সকালে বা দুপুরে খাওয়া দাওয়ার পরে আমরা অনেক পরিমানে ঘুমায়। এই কারণে আমাদের রাতের বেলায় ঘুম আসতে সমস্যা হয় ও আমরা শান্তিতে ঘুমায় তে পারি না। আপনি যখন দিনের বেলায় বেশি পরিমাণে ঘুমিয়ে নিবেন।
তখন আপনার রাতে ঘুম আসতে চাইবে না। তাই আপনাকে দিনে বেলায় ঘুম থেকে বিরত থাকতে হবে।জদি দিনের বেলায় ঘুমানো জরুরি হয় তাইলে আপনি দেড় ঘন্টা ঘুমায় তে পারেন। তাতে করে আপনার রাতে ঘুমানোর সময় আপনি শান্তিতে ঘুমায় তে পারবেন।
জদি আপনি শান্তিতে ঘুমানোর দোয়া পরে ঘুমান আর আপনার ফোন টা আপনি ঘুমানোর 1- 2 ঘন্টা আগে থেকে ব্যবহার করা বন্ধ রাখুন যাতে করে আপনার শান্তিতে ঘুম আসে। শান্তিতে ঘুমানো দোয়া পড়ার পরে।
আমাদের পরামর্শ
আপনি যদি কোন বিষয়ে শান্তি না পান. তাইলে আপনি সূরা আর রহমান শুনতে পারেন এতে করে আপনার মনের মধ্যে যদি কোন অশান্তি থেকে থাকে তাইলে আপনার মনের অশান্তি দূর হয়ে যাবে। আর আপনি যদি শান্তিতে ঘুমানোর দোয়া পড়ে ঘুমান তাইলে আপনার নিশ্চিত ঘুম আসবে। কারণ এই দোয়া পড়ে আমিও ঘুমাই আমার অনেক ভালো ঘুম হয়।
এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url