রোজা রেখে লাভ নেই যাদের তা বিস্তারিত জানুন

রোজা রেখে লাভ নেই যাদের তা বিস্তারিত নিচে তাদের সকল বর্ণনা দেওয়া রয়েছেএর জন্য আমাদের জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে রোজা রেখে লাভ নেই যাদের তারা কারা এবং কি কাজ করলে রোজা রেখে লাভ নেই

রোজা-রেখে-লাভ-নেই-যাদের-তা-বিস্তারিত-জানুন

সূচিপত্র রোজা রেখে লাভ নেই যাদের

রোজা রেখে লাভ নেই যাদের তা বিস্তারিত জানুন

অন্যায় অপরাধ মুক্ত থাকার মাস রমজান। আমল দ্বারা জীবন সাজানোর মাস হলো রমজান, নিজের জীবন গোছানোর মাস হলো রমজান, এই মাসে কিছু বিষয় খেয়াল রাখলেই ও কথা মত চললেই একজন মমিন লাভ করবে আল্লাহর সন্তুষ্ট। কিন্তু একজন মুমিন যদি এমন কোন কাজ করে ফেলে যেটি করলে তার রোজা ভেঙ্গে যাবে। তার রোজা রাখা আর না রাখা সমান। এর জন্য আমাদের জানতে হবে রোজার রেখে লাভ নেই যাদের। এমন কাজ করা যাবে না যাতে আমরা তাদের মধ্যে পড়ে যাই।

রোজা থেকে অযথা কথা বলা

রোজা থাকা অবস্থায় পারস্পরিক অযথা কথা  বলা নিষিদ্ধ। আবার অশ্লীল ভাষা এবং গান ও বাদ্য বাজনা ভরপুর বিনোদন থেকে চোখ ও কান কে হেফাজত করাকে জরুরী । অশ্লীল এসব কর্মকাণ্ড থেকে বিরত না থাকার কারণে আমাদের রোজা আল্লাহর দরবারে কবুল হবে না। আমাদের শুধু না খেয়ে উপোস করাই হবে রোজা আর হবে না।

রোজা থেকে গীবত করা

গীবত ও মিথ্যাচার না করা। যে ব্যক্তি রোজা রেখে মিথ্যা পরিহার করতে পারল না বা  অন্যের সমালোচনা থেকে বিরত থাকতে পারল না। তার রোজা উপবাস ছাড়া, আর কিছুই নয়। তাই মহানবী (সঃ)বলেছেন রোজা ঐ ব্যক্তির জন্য ঢাল যে ব্যক্তি গীবত ও মিথ্যা পরিহার করতে পারল।


অতএব আমাদের রোজা থাকা অবস্থায় মিথ্যা ও গীবত থেকে দূরে থাকতে হবে। এবং এই এক মাস প্র্যাকটিস করতে হবে মিথ্যা ও গীবত থেকে দূরে থাকার জন্য। এটি যেন সারা জীবন আপনি চালিয়ে যেতে পারেন এই এক মাসে আপনি সেটি প্র্যাকটিস করবেন।

রোজা থাকা অবস্থায় খারাপ আচরণ করা

রোজা আল্লাহ তায়ালা মাস, এই মাসে আল্লাহ বান্দাদের কে পরিপূর্ণ নিয়ামত দান করেন। তাই রমজানে সবার সাথে ভালো আচরণ করা সৎকর্মশীল বান্দার গুণ। তাই কোন রোজাদার কে যে এমন কষ্ট দেওয়া উচিত নয়, তেমনি কারো সাথে খারাপ আচরণ করা ঠিক হবে না।

রোজা-থাকা-অবস্থায়-খারাপ-আচরণ-করা

সবার সাথে ভালো আচরণ ও কল্যান কামনা করতে হবে। তাই আমাদের এই রোজার মাসে কারো সাথে খারাপ আচরণ থেকে বিরত থাকতে হবে ও কারো ক্ষতি থেকে বিরত থাকতে হবে। আমরা যেন সৎ মত থেকে এই পবিত্র রোজার মাস শেষ করতে পারি। এই দোয়াই করতে হবে আল্লাহর কাছে।

খারাপ দৃষ্টি না দেওয়া

রমজানের চলা ফেরা ওঠা বসা সবই মহান আল্লাহর জন্য। এই রমজান মাস আল্লাহর তাই এর মাসের সব কাজও করতে হবে মহান আল্লাহর তাআলার জন্য । তাই সব কাজে চোখে হেফাজত করে রাখতে হবে। খারাপ নজরে দেখা মহা অপরাধ। হযরত মুহাম্মদ (সঃ) বলেছেন: শয়তানের  তীর সমূহের মধ্যে মানুষের  কুদৃষ্টি একটি।

যে ব্যক্তি আল্লাহর ভয়ে এটি থেকে বিরত থাকে। আল্লাহ তায়ালা বলেন আল্লাহ তায়ালা তার হৃদয়ে এমন দৃষ্টিশক্তি দান করেন, যা মজা,স্বাদ অনুভব করতে সাহায্য করে। তাই মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আমাদের এই রমজান মাসে বদ নজর থেকে চোখকে হেফাজত করতে হবে।

পর নিন্দা থেকে বিরত থাকা

পর নিন্দা হল কারো বিষয়ে খারাপ কিছু লটানো। পবিত্র কুরআন উল কারীমে এসেছে ,যে ব্যক্তি পর নিন্দা করলো সে মরা মানুষের গোশত খাইলো (নাউজুবিল্লাহ) হাদিসে এসেছে, কোন ব্যক্তির পেছনে এমন কোন কথা বলা যে, কথা তার সামনে বললে সে নারাজ হয়। 

এই বিষয়টাকে গীবত বলে। আর এই কথাগুলো যদি সত্য না হয়ে মিথ্যা হয়, তবে তার বিষয়ে মিথ্যা অপবাদ ছড়ানো হলো। এটি আরো বড় মারাত্মক অপরাধ। (নাউজুবিল্লাহ) আমাদের কাছে রোজার মূল্য অনেক বেশি। তাই আমরা চেষ্টা করব যেন পরনিন্দা ও গীবত থেকে আমরা বিরত থাকতে পারি।

হাদিসে এসেছে এমন অনেক রোজাদার আছেন যাদের রোজা করা আর উপবাস করা একই কথা। রাত জেগে ইবাদত করা। এমন আবেদ আছে যাদের রাত জেগে ইবাদত করার কোন ফল অর্জিত হয় না। কারণ তারা রোজা রাখা অবস্থায় কিছু কাজ থেকে বিরত থাকতে পারেনা। তাই রমজান মাসে দিনের বেলায় রোজা থেকে ওর রাতের বেলায় রাত জেগে ইবাদত করার অর্থবহ করার জন্য কিছু বিষয় আমাদের মেনে চলতে হবে।

আমাদের পরামর্শ

দীর্ঘ ১১ মাস পরে আমরা রমজান মাস পেয়েছি। এই রমজান মাসে  এই সব কিছু ভুলের কারণে আমাদের রোজা আল্লাহর দরবারে কবুল হয় না। তাই এই সব থেকে আমরা বিরত থাকি ও মহান আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনে ত্রিশটি রোজা রাখি

ও আল্লাহর কাছে দোয়া করি, যেন আমাদের কে ত্রিশটি রোজায় রাখার তৌফিক দান করে। আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনে আমরা সফল হই। (আমিন)

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url