মাইকেল জ্যাকসনের মৃত্যুর আসল রহস্য জানুন
প্রিয় পাঠক মাইকেল জ্যাকসনের মৃত্যুর আসল রহস্য জানুন। মাইকেল জ্যাকসন এমন একটি ব্যক্তি ছিলেন যিনি কখনো মরতে চাইতেন না। তিনি ১৫০ বছর বাঁচার জন্য অনেক কিছু করেছেন।
তবে তিনি 50 বছর বয়সেই মারা যান।মাইকেল জ্যাকসনের মৃত্যুর আসল রহস্য। এখনো তার ভক্তরা মনে করে যে মাইকেল জ্যাকসন এখনো মারা যায়নি, আমরা আজকে আপনাকে জানাবো মাইকেল জ্যাকসন আদৌ কি মারা গেছে নাকি এখনো বেঁচে থেকে নিজেকে লুকিয়ে রেখেছে?
সূচিপত্র :মাইকেল জ্যাকসনের মৃত্যুর আসল রহস্য
মাইকেল জ্যাকসনের মৃত্যুর আসল রহস্য জানুন
মাত্র ৫০ বছর বয়সে ওষুধের বিষক্রিয়ায় তিনি পাড়ি জমানো না ফেরার দেশে। মৃত্যুর আগে দুই দশক ধরে মাইকেল জ্যাকসন পপ সংগীতের সমার্থক শব্দ ছিল। মাইকেল জ্যাকসনের আকস্মিক মৃত্যু নিয়েও রহস্যের কমতি নেই। মাইকেল মারা যাওয়ার সময় তার শরীরে ছয় ধরনের মাদকের ভয়াবহ মিশ্রনের ছেদ ছিল।
মাইকেল জ্যাকসন মারা যাওয়ার পর পাওয়া গেছে ছয় ধরনের মাদক মাদকের মিশ্র উপস্থিতি। যেখানে শরীরে ব্যথা নাশক খুবই শক্তিশালী ইনজেকশন নেওয়ার চিহ্ন পাওয়া গেছে। মাইকেল জ্যাকসনের ব্যক্তিগত চিকিৎসককে দোষী সাব্যস্ত করেছিল আদালত। পপস্টার এর মৃত্যুর অনিচ্ছাকৃতভাবে ও সেই ব্যক্তিগত চিকিৎসক দায়ী বলে জানাই লস এঞ্জেলের আদালত।
অনেকেই মনে করেন মাইকেল জ্যাকসন বেঁচে আছেন
অবাক করা ব্যাপার হলো মাইকেল ভক্তরা মনে করেন তিনি এখনো বেঁচে আছেন। খ্যাতি আর সাফল্যের মায়াজালে তিনি নিঃসঙ্গ অনুভব করছেন বলেই এ জীবন থেকে পালিয়ে গেছেন। ছদ্মবেশে ঘুরছেন দেশ থেকে দেশে। এগুলো মোটেও বানানো কথা নয় ,বিশ্বের অধিকাংশ মাইকেল ভক্তের মধ্যে তিনি এখনো বেঁচে আছেন।
মাইকেল নাকি মারা যাননি এই দাবি করে থাকে মাইকেল ভক্তরা। তিনি নাকি দিব্যি বেঁচে আছেন এই গুজবটি এতটি বিশাল যে এই বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাগাজিনে বিষয় হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে গুঞ্জন আছে মাইকেলের আত্মা নাকি তার বাড়ি নেভারল্যান্ড রাজ্যে বাসার মধ্যে ঘুরে বেড়াই। ওখানকার স্থানীয় লোকেরা বলে যে মাইকেল মাঝে হাঁটাচলা।
মাইকেল জ্যাকসনের জন্ম ও পরিবার
১৯৫৮ সালে ২৯ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা রাজ্যে গ্যারে নামের এক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি দশ ভাইবোনের মধ্যে অষ্টম ছিলেন মাইকেল জ্যাকসন। তার পরিবার ছিল আফ্রো-আমেরিকান। তার বাবা জো জ্যাকসনের এর কঠোর শাসনে বেড়ে উঠেছেন মাইকেল জ্যাকসন।
জীবন দশায় মাইকেল জ্যাকসন জানিয়েছিলেন যথাযথভাবে সংগীত চর্চা না করতে পারলে,বাবার হাতে শারীরিক ও মানসিক ভাবে নির্যাতিত হতে তিনি। তবে নিজের প্রতিষ্ঠিতর পেছনে বাবার ভূমিকায় বেশি বলে স্বীকার করেছেন মাইকেল জ্যাকসন।
মাইকেল জ্যাকসনের সঙ্গীতে প্রবেশ যাত্রা
মাইকেল জ্যাকসন মাত্র পাঁচ বছর বয়সে তার ভাইদের সাথে জ্যাকসন ফাইভ মিউজিকাল গ্রুপে যোগ দেন। মাত্র ১৩ বছর বয়সে এককভাবে মাইকেল জ্যাকসনের ক্যারিয়ার যাত্রা শুরু হয়। ১৯৭২ সালে তার প্রথম অ্যালবাম BAN প্রকাশিত হয়। এরপর ১৯৭৯ সালে তার পরবর্তী অ্যালবাম বের হয়েছিল, এই অ্যালবামের নাম ছিল Off the Wall।
মাইকেল জ্যাকসনের গানের ভিডিও গুলো এখনো বিশ্ববাসীকে রীতিমতো মুগ্ধ করে রেখেছে। মাইকেল জ্যাকসন তার BEAT IT গানটি রিলিজ করার পর MTV শীর্ষে অবস্থান করেছিলেন। মাইকেল জ্যাকসনের বেশি বিকৃত অ্যালবাম এর মধ্যে রয়েছে Off the Wall, Thriller, BAN, Dangerous এবং History। এর মধ্যে Thriller বেশি বিক্রি হয়েছিল। তিনি যে কত বড় শিল্পী ছিলেন তা বোঝার জন্য একটি রেকর্ডিং যথেষ্ট।
মাইকেল জ্যাকসনের উপার্জিত সম্পদ
পপ সম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের রেখে যাওয়া সম্পত্তি থেকে এ পর্যন্ত আয় এর পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় 600 মিলিয়ন ডলার। এটি মাইকেল জ্যাকসনের রেকর্ড পরিমাণ আয় করা, থ্রিলার অ্যালবাম থেকেও বেশি ৬০০মিলিয়নের এই বিশাল অর্থ মূলত টিকিট বিক্রি থেকে এসেছে।
২০০৯ এর জুন মাসে মৃত্যুর পর অর্জিত হয়েছে এই অর্থ। এখন পর্যন্ত মাইকেল জ্যাকসনের সব থেকে বেশি অ্যালবাম বিক্রি হচ্ছে। তার মৃত্যুর পর থেকে প্রায় ই ৫০ মিলিয়ন কপি অ্যালবাম বিক্রি হয়েছে এ পর্যন্ত। মাইকেল জ্যাকসন মৃত্যুর পরেও যে ধনী হচ্ছেন।
মাইকেল জ্যাকসনের বিবাহিত জীবন
১৯৯৪ সালের সালের আগস্টে বিখ্যাত সংগীত শিল্পী এলভিস প্রিসলির কন্যা লিসা মেরি প্রিসলিকে বিয়ে করেছিলেন। অবশ্য ১৯৯৬ সালেই তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর মাইকেল জ্যাকসন ডেবি রো নামে একটি নার্সকে বিয়ে করেছিলেন এরপর কৃত্রিম উপায়ে তাদের দুটি সন্তান হয়।
এর মধ্যে 1997 সালে ছেলে প্রিন্স মাইকেল জ্যাকসন এবং 1998 সালে প্যারিস-মাইকেল জ্যাকসন জন্ম হয়। ১৯৯৯ সালে ডেবি রো সাথেও মাইকেল জ্যাকসনের বিচ্ছেদ হয়।
মাইকেল জ্যাকসনের যৌন অত্যাচার
বৈবাহিক জীবনের বাইরেও শিশু যৌন নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ উঠে এই জনপ্রিয় পপ শিল্পের বিরুদ্ধে। যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে ২০০৫ সালে আদালতের কাঠগড়ায় তাকে দাঁড়াতে হয়। মাইকেলের এই যৌন নির্যাতনের বিষয়টি আরো খোলাসা হয় তার কন্যা প্যারিসর আত্মহত্যার চেষ্টা পরে।
এফবিআই যে তালিকা দিয়েছে সেখানে অভিযোগের সত্যতা মেলে। শিশুদের প্রতি যৌন আসক্ত ছিলেন মাইকেল জ্যাকসন।জীবন দশায় অন্তত 24 জন বালককে তিনি যৌন হয়রানি করেছিলেন। এতে তিনি ব্যয় করেছেন তিন কোটি 50 লাখ মার্কিন ডলার। তিনি প্রায় 15 বছর ধরে এই কর্মে লিপ্ত ছিলেন।
মাইকেল জ্যাকসন এর ১৫০ বছর বাঁচার প্রচেষ্টা
মাইকেল জ্যাকসনের রহস্যময় জীবনের রয়েছে কত রকম রহস্য তার মাঝের অন্যতম হলো মাইকেল জ্যাকসনের ১৫০ বছর বেঁচে থাকার আপ্রাণ প্রচেষ্টা। ব্যাড অ্যালবামটি হিট করার পর টাকা আর খেতির এই দুইটির অভাব হয়নি মাইকেল জ্যাকসনের। সুন্দর এই পৃথিবীর মায়া তারও ছিল। সে কারণে কিভাবে অমর হওয়া যায় সে রাস্তায় খুজছিলেন তিনি।
এর জন্য বিশ্বের সর্বোচ্চ চিকিৎসা বিজ্ঞানের নাগাল পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। মাইকেল জ্যাকসন বিশ্বাস করতেন একসময় ক্লোনিং করা সম্ভব হবে এবং এর পেছনে যে টাকা পয়সা ব্যয় করছেন তাও সার্থক হবে। শুধু ক্লোনিং নয় কমপক্ষে 150 বছর বাঁচার জন্য তিনি তৈরি করেছিলেন একটি জটিল অক্সিজেন চেম্বার।
তিনি সেখানে নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস তৈরি করেন, তিনি বেশি সময় বাঁচার জন্য এই গ্রন্থটি ব্যবহার করেন। মাইকেল জ্যাকসন সার্জারি করে ফর্সা হয়েছিলেন, 1979 সালে মাইকেল জ্যাকসন প্রথম কসমেটিক অপারেশন করান। এবং তারপরেই তার একটি অ্যাক্সিডেন্ট হয়। এক্সিডেন্টে তার নাক ভেঙ্গে যায়। সেই কারণেই তাকে মুখোশ পরা অবস্থায় দেখা যেত।
মাইকেল জ্যাকসনের বিষণ্নতায় ভরা জীবন
প্রকৃতপক্ষে মাইকেল জ্যাকসন কে বোঝা আসলেই কঠিন বিষয়। তিনি স্টেজ কাঁপাতেন যেমন দাপটে সঙ্গে তেমনি ,গভীর রাতে একাকী কাটাতেন ভিশন বিষণ্নতায়, সারারাত পার করে দিতেন গোপনে কান্না করে। মাইকেল জ্যাকসন ব্যক্তিগত জীবনে খুবই নিঃসঙ্গ একজন ব্যক্তি ছিলেন।
মাইকেল জ্যাকসন খুব বেশি মানুষের সাথে মিশতেন না, মাইকেল জ্যাকসন ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করতেন না, একসময় ঘুম তাকে ছেড়ে চলে গিয়েছিল। সারারাত মাদকে আচ্ছন্ন থাকতেন সে সময় করা ঘুমের ওষুধ ব্যবহার করার পরেও তার ঘুম আসতো না।
প্রিয় পাঠক ওপরে মাইকেল জ্যাকসনের মৃত্যুর আসল রহস্য জানানো হয়েছে।
এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url